কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এসএসসি সনদ জাল করে চাকরিতে যোগদান এবং পরে প্রকৃত এসএসসি পাসের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ৪২ বছর চাকরির শেষে আগামী ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার আগেই উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের তদন্তে এসব অসঙ্গতি ধরা পড়ে।উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নাজিমুদ্দিন বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে খুলনা বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার সরাবদিপুর গ্রামের ইসমাইল সরদারের পুত্র হাবিবুর রহমান বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৮৩ সালের ২৫ জুন। কিন্তু তার আগেই ১৯৮২ সালে এসএসসি পাস দেখিয়ে ১৫ মে ১৯৮৩ সালে সরাবদিপুর রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, তৎকালীন নিয়োগে মোটা অঙ্কের ঘুষের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে প্রভাবিত করে তিনি চাকরি লাভ করেন। পরে ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয়টি রেজিস্টার্ড থেকে জাতীয়করণ হলে তিনি এইচএসসি পাস দেখিয়ে আত্মীকরণ (এনএসটি) সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৯২ সালে পুনরায় আত্মীকরণ এবং ২০০১ সালে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৭ সালেও একবার আত্মীকরণ সম্পন্ন হন তিনি।নিয়ম অনুযায়ী আত্মীকরণের পর পুনরায় আত্মীকরণের সুযোগ না থাকলেও একাধিকবার আত্মীকরণ, আত্তীকরণের আগেই প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস।হিসাবরক্ষণ অফিস জানায়, তিনি ১০ মে ১৯৮৩ তারিখে যে এসএসসি সনদ জমা দিয়ে চাকরিতে যোগ দেন, তার তারিখ এবং প্রকৃত এসএসসি পাসের তারিখ (২৫ জুন ১৯৮৩) একে অপরের সঙ্গে মেলে না। তাছাড়া পরবর্তী সময়ে জমা দেওয়া এইচএসসি সনদও সন্দেহজনক।বিভিন্ন অসঙ্গতি, জালিয়াতি ও নিয়মবহির্ভূত কাগজপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগে তার সমস্ত সার্টিফিকেট ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিসকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের নিকট একাধিকবার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস। অথচ আগামী ডিসেম্বরেই তিনি এলপিআর-এ (অবসরোত্তর ছুটি) যাওয়ার কথা।এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং অভিযোগের দায়-দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওপর চাপিয়ে দেন।
Leave a Reply