বিবিআর নিউজ ডেস্ক:- ভারতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ব্যক্তিদের বাংলাদেশে না পাঠানোর আহ্বান বাংলাদেশ কংগ্রেসেস।ঢাকা, ১ জুন: ভারতে জন্মগ্রহণ ও সেখানেই বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশে কখনও বসবাস না করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। দলটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেছেন, নাগরিকত্ব ও জাতীয় পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে জন্মস্থান, স্থায়ী বসবাস, সামাজিক সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এমন কাউকে বাংলাদেশে পাঠাবেন না যার জন্ম ভারতে এবং যিনি সারা জীবন ভারতেই বসবাস করেছেন। তার জন্মভূমি ভারত, তার শিক্ষা, সামাজিক সম্পর্ক ও জীবনযাত্রা ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি কখনও বাংলাদেশে আসেননি বা বসবাস করেননি, তাহলে তাকে বাংলাদেশে ‘ফেরত’ পাঠানোর যৌক্তিকতা কোথায়?”
তিনি বলেন, ভারতে অবৈধ বাংলাদেশি শনাক্তকরণ ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের আওতায় এমন কিছু ব্যক্তির নাম উঠে আসছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, যাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভারতে এবং যারা কখনও বাংলাদেশে বসবাস করেননি।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব নির্ধারণ একটি জটিল বিষয়, যেখানে জন্মস্থান, বংশসূত্র, স্থায়ী বসবাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো ব্যক্তির প্রকৃত নাগরিকত্ব যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র পারিবারিক বা বংশগত সূত্রের ভিত্তিতে কাউকে এমন একটি দেশে পাঠানো উচিত নয়, যার সঙ্গে তার বাস্তব কোনো সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা বসবাসগত সম্পর্ক নেই। এতে পরিচয় সংকট, মানবিক সমস্যা এবং রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।”
ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য যাচাই, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা এবং বিদ্যমান আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ভুল পরিচয়ের কারণে অনিশ্চয়তা বা মানবিক সংকটের মুখোমুখি না হন, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কংগ্রেস মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক আইন এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণের নীতির আলোকে এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত ও মানবিক সমাধানের আহ্বান জানায়।
Leave a Reply