মোঃ লিটন হুসাইন:- তালা উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সরিষা আবাদ খুশির হাঁসি গ্রামীন কৃষকদের মুখে অন্য বছরের তুলনায় এবার বেড়েছে সরিষার আবাদ ভূমি।তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য মতে জানা গেছে চলতি বছরে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১০৯১ হেক্টর।তবে এবার সকল রেকর্ড ভেঙে লক্ষমাত্রা অতিক্রম করবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত জুড়ে সরিষা ফুলের হলদে রঙে রাঙিয়ে উঠেছে কৃষকের মাঠ। বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে নজর কাড়ছে সরিষা ক্ষেত। এসব ক্ষেতে মুখরিত মৌমাছির গুনগুন শব্দ। যেদিকে চোখ যায় শুধু সরিষা ফুলের সমারোহ পড়ন্ত বিকেলে পল্লীর রমনীরা ফটো সেশনে ব্যাস্ত থাকেন, বসে নেই উড়তি বয়সী যুবকের দল বিকেলে মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে। কৃষকরা মনে করেনএবার রেকর্ড পরিমাণ সরিষা আবাদ হয়েছে। আবহাওয়াসহ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ফলনও বাম্পার হবে।এলাকাগুলোতে চাষ করা হয়েছে নানা জাতের সরিষা। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় সরিষা বপন করছে কৃষকরা। এ বীজ থেকে গজিয়ে উঠে সবুজ পাতার গাছ। সেই পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলদে রঙের ফুল। এসব ফুলের মাঝে লুকিয়ে রয়েছে কৃষকের স্বপ্ন। এ বছরে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের চোখেমুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক।
তালা উপজেলার কৃষক আবু তাহের জানিয়েছেন- সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম তিনি আরো জানায়, মাঝে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে সামান্য কিছু ক্ষতি হলেও এখন সরিষা ক্ষেত ফুলে ফুটে ছেয়ে গেছে। আর অল্প কিছুদিন পরেই ফুল থেকে সরিষা দানা হবে।এবছর আবহাওয়াসহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছি এবার সরিষার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাই সরিষা আবাদ করতে তেমন বেগ পেতে হয় না, অন্য ফসল চাষীরা ঝুঁকেছেন সরিষা চাষের দিকে।উপজেলার একাধিক সফল কৃষক মনে করেন তৈলফসলেরআমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষা আবাদ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সরিষা চাষ বৃদ্ধির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন রোপা আমন ও বোরো এর মাঝে চাষযোগ্য সরিষার জাত নির্বাচন। স্বল্প জীবনকালের রোপা আমন চাষের পর সরিষা অনায়াসে চাষ করা যায়।সাতক্ষীরা তথা দেশের উপকূলীয় এলাকায় উন্নত জাতের সরিষা আবাদ হয়েছে ,চাষ পদ্ধতি,পরিচর্যা ওগুণগতমান বিভিন্ন জাত উল্লেখযোগ্য হলো:-বারি সরিষা-৯,গাছের উচ্চতা ৮০-৯৫ সেমি এবং প্রতি গাছে ৪-৬টি শাখা থাকে। পাতা হালকা সবুজ রঙের এবং মসৃণ। পাতার বোঁটা কান্ডকে সম্পূর্ণ ঘিরে রাখে। প্রস্ফুটিত ফুল কুঁড়ির উপরে থাকে। ফুলের রং হলুদ। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৮০-১০০টি। ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট। প্রতি বীজে ফলের সংখ্যা ১৫-২০টি। বীজের রং পিঙ্গল। এক হাজার বীজের ওজন ২.৫-৩.০ গ্রাম। বীজে তেলে পরিমাণ ৪৩-৪৪ ভাগ। ফসল পাকতে ৮০-৮৫ দিন সময় লাগে। পরিমিত সার ও সেচ প্রয়োগে হেক্টর প্রতি ১.২৫-১.৪৫ মে.টন ফলন পাওয়া যায়।বারি সরিষা-১৪ গাছের উচ্চতা ৭৫-৮৫ সেমি। পাতা হালকা সবুজ রঙের এবং মসৃণ। ফুলের রং হলুদ। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৮০-১০০টি। ফল ৪ কক্ষ বিশিষ্ট মনে হলেও ২ কক্ষ বিশিষ্ট। প্রতি বীজে ফলের সংখ্যা ২২-২৬টি। বীজের রং হলুদ। এক হাজার বীজের ওজন ৩.৫-৩.৮ গ্রাম। ফসল পাকতে ৭৫-৮০ দিন সময় লাগে। পরিমিত সার ও সেচ প্রয়োগে হেক্টর প্রতি ১.৪-১.৬ মে.টন ফলন পাওয়া যায়।বারি সরিষা-১৫ গাছের উচ্চতা ৯০-১০০ সেমি। পাতা হালকা সবুজ রঙের এবং মসৃণ। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৭০-৮০টি। ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট। প্রতি বীজে ফলের সংখ্যা ২০-২২টি। ফল বারি সরিষা-১৪ এর তুলনায় সরু ও লম্বা। বীজের রং হলুদ। এক হাজার বীজের ওজন ৩.২৫-৩.৫০ গ্রাম। ফসল পাকতে ৮০-৮৫ দিন সময় লাগে। পরিমিত সার ও সেচ প্রয়োগে হেক্টর প্রতি ১.৫৫-১.৬৫ মে.টন ফলন পাওয়া যায়। বারি সরিষা-১৭গাছের উচ্চতা ৯৫-৯৭ সেমি। পাতা হালকা সবুজ রঙের এবং মসৃণ। ফুলের রং হলুদ। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৬০-৬৫টি। ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট। প্রতি বীজে ফলের সংখ্যা ২৮-৩০টি। বীজের রং হলুদ। এক হাজার বীজের ওজন ৩.০-৩.৪ গ্রাম। ফসল পাকতে ৮২-৮৬ দিন সময় লাগে। পরিমিত সার ও সেচ প্রয়োগে হেক্টর প্রতি ১.৭-১.৮ মে.টন ফলন পাওয়া যায়।বিনাসরিষা-৪
গাছের উচ্চতা ৯০-৯৫ সেমি। প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ৩-৫ টি। এ জাতের ফুলের রং হলুদ। বীজের রং লালচে কালো। এক হাজার বীজের ওজন ৩.৬-৩.৮ গ্রাম। ফসল পাকতে ৮০-৮৫ দিন সময় লাগে। পরিমিত সার ও সেচ প্রয়োগে হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৮০ মে.টন। এ জাতের সরিষা মধ্য অগ্রহায়ন পর্যন্ত বপন করা করা যায় বিনাসরিষা-৯ গাছের উচ্চতা ৮৫-৯০ সেমি। প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ৩-৪টি। এ জাতের ফুলের রং হলুদ। বীজের রং লালচে কালো। এক হাজার বীজের ওজন ২.৯-৩.৫ গ্রাম। ফসল পাকতে ৮০-৮৪ দিন সময় লাগে। পরিমিত সার ও সেচ প্রয়োগে হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৭ মে.টন। অল্টারনারিয়া ব্লাইট ও বৃষ্টিজনিত সাময়িক জলাবদ্ধতা সহনশীল।বিনাসরিষা-১০ গাছের উচ্চতা ৯৫-১০৫ সেমি। প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ৩-৫টি। এ জাতের ফুলের রং হলুদ। বীজের রং লালচে। এক হাজার বীজের ওজন ২.৮-২.৯ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমা ৪২%। ফসল পাকতে ৭৮-৮২ দিন সময় লাগে। পরিমিত সার ও সেচ প্রয়োগে হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৫ মে.টন। তালা উপজেলা কৃষি উপ সহকারী অফিসার হাজিরা খাতুন “বিবিআর নিউজ,,,কে জানান উপজেলায় ১০৯১ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে, কৃষকের মাঝে সার বীজ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে , তাছাড়া এ বছরে তালার সরিষা চাষে উপর কৃষকের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি,সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা,সহয়তা কৃষকের প্রদান করা হবে।
Leave a Reply