কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পরিত্যক্ত অবস্থায় সাড়ে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ২৯ কেজি গাঁজা ৬ ‘শ বোতল ফেনসিডিল ও ২ বস্তা নবরত্ন তেল ভারত থেকে চোরাকারবারিরা নিয়ে আসলেও পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ৭ কেজি গাঁজা অভিযোগ স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার (২৩ মে)গভীর রাতে উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের দাড়িয়ালা গ্রাম থেকে ওই মাদক উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ৩ চোরাকারবারির বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে জানান, উকশা সীমান্ত দিয়ে দাড়িয়ালা গ্রামের মৃত গফ্ফার গাজীর ছেলে রাশেদ গাজী,একই এলাকার বাবর আলী শেখের ছেলে আফছার শেখ ও শ্যমনগর উপজেলার বিনোদ নামে চোরাকারবারীরা ২০ কেজি গাঁজা, ৬’শবোতল ফেনসিডিল, ২বস্তা নবরত্ন তেল নিয়ে ভারত থেকে নদী পথে উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের উকশা সীমান্ত দিয়ে নিয়ে আসে। অবৈধ মাদক ও তেল নিয়ে তারা উকশা সীমান্ত পার হয়ে আসলে ধলবাড়ি ইউনিয়নের দাড়িয়ালা গ্রামের মৃত ফকির আহম্মদ মল্লিকের ছেলে গফুর মল্লিক ও তার ছেলে ওবায়দুর রহমান,আব্দুর রহমানের ছেলে ছোটন ও বাবুরালীর ছেলে শফিকুল ইসলাম পথ মধ্যে তাদের আটক করে। পরবর্তীতে ১৫ কেজি গাঁজা ও ৬’শ বোতল ফেনসিডিল ও ২ বস্তা নবরত্ন তেল চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তারা। এসময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫ কেজি গাঁজা আটক করেছে বলে তারা ধলবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী শওকত হোসেনকে খবর দেয়। চেয়ারম্যান থানায় খবর দিলে পুলিশ দাড়িয়ালা গ্রামের রেকাতের মোড় থেকে মঙ্গলবার রাতে গাঁজা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ১৫ কেজি গাঁজা ও ফেনসিডিল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা জানতে পারেন। এসময় তিনি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান। বুধবার (২৪ মে) রাতে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবারও আড়াই কেজি গাঁজা উদ্ধার করে থানায় জমা দেন। তবে এখনও সাড়ে ১২ কেজি গাঁজা ও ৬’শ বোতল ফেনসিডিল ও ২ বস্তা নবরত্ন তেল রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে গফুর মল্লিক জানান,৩ জন চোরাকারবারির কাছে ৫ কেজি গাঁজা ছিল সে গুলো পুলিশ জব্দ করেছে। এছাড়া ৬’ শ বোতল ফেনসিডিলও ছিল তাদের কাছে। তবে তিনি নবরত্ন তেল দেখেননি। তিনি চোরাকারবারিদের কাছ থেকে মাদক ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয় অস্বীকার করেন।চোরাকারবারি রাশেদ গাজী জানান, তিনি ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২০ কেজি গাঁজা ৬’শ বোতল ফেনসিডিল ও ২ বস্তা নবরত্ন তেল ভারত থেকে নদী সাঁতরে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তার কাছ থেকে উকশো গ্রামের বাবু সরদারের ছেলে শফিকুল ও তার সহযোগীরা পুলিশের ভয় দেখিয়ে ওই মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী শওকত হোসেন জানান, অবৈধভাবে ভারত থেকে নদী পথে ২০ কেজি গাঁজা চোরাকারবারীরা নিয়ে এসেছিল। তার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ৫ কেজি ও বুধবার রাতে আড়াই কেজি গাঁজা উদ্ধার করে তিনি পুলিশের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি সাড়ে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধারের জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ফেনসিডিল ও তেলের বিষয় তিনি অবগত নন। এছাড়া বুধবার রাতে আড়ই কেজি গাঁজা কাদের কাছ থেকে তিনি উদ্ধার করেছেন এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন রহমান জানান,মোট সাড়ে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। ৫ কেজি গাঁজা মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করা হয়। এবিষয়ে ৩ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাতে আড়াই কেজি গাঁজা ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উদ্ধার করে দিয়েছেন ।ওই গাঁজা গুলো পরিত্যক্ত দেখানো হয়েছে । তবে ২০ কেজি গাঁজা,৬’শ বোতল ফেনসিডিল ২ ব্যাগ তেলের বিষয় তিনি অবগত নন বলে জানান।মাদক চক্রের সাথে জড়িত গড ফাদারদের খুঁজে বের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply